বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd অক্টোবর ২০১৮

গত ২৭/০৯/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে কপিরাইট অফিসে কপিরাইট আইন বিষয়ক অভ্যন্তরীণ সভার সিদ্ধান্ত ।


প্রকাশন তারিখ : 2018-10-03

গত ২৭/০৯/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে কপিরাইট অফিসে কপিরাইট আইন বিষয়ক অভ্যন্তরীণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভার সিদ্ধান্ত সমূহ নিন্মে তুলে ধরা হলো-

১. কপিরাইট আইনের ১৫ ধারায় ‘কপিরাইট থাকে এমন কর্ম’ হিসেবে “রেকর্ড ” কর্ম বলে কোন কিছু উল্লেখ নেই; আছে “ শব্দ রেকর্ডিং ”। কিন্তু কপিরাইট বিধিতে “ রেকর্ড ” কর্ম বলে উল্লেখ আছে, ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বস্তুতপক্ষে রেকর্ড একটি ক্রিয়ামাত্র। এরসঙ্গেঁ অডিও এবং ভিডিও দুটো বিষয়ই সম্পৃক্ত। কপিরাইট আইনের ২(১৪) ধারা অনুযায়ী  ভিডিও রেকর্ডিং সুস্পষ্টভাবে চলচ্চিত্রের অন্তর্ভূক্ত। অন্যদিকে ২(৩৫) ধারায় শব্দ রেকর্ডিংয়ের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, এতে সুস্পষ্টভাবে অডিও রেকর্ডিংকে বোঝানো হয়েছে। অধিকন্তু বাংলাদেশের কপিরাইট আইনে কেবল “রেকর্ডিং ”-এর কোন সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। ইন্ডিয়ান কপিরাইট আইনেও কেবল “ রেকর্ডিং ” নামে কোন সংজ্ঞার উল্লেখ নেই। তবে শব্দ রেকর্ডিং-এর রয়েছে । উক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে আবেদনপত্রে “রেকর্ড ’ কর্ম হিসেবে উল্লিখিত কোন কর্মের আবেদন গ্রহণ না করে কপিরাইট আইনের ১৫(গ) ধারা অনুযায়ী “শব্দ রেকর্ডিং ” হিসেবে কর্মগুলোর আবেদন গ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশন সনদ প্রদান যুক্তিযুক্ত হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী বোর্ড সভায় অনুমোদন নিতে হবে।

 

২. নাট্য কর্মের মধ্যে শুধুমাত্র পালাগান, যাত্রা, মঞ্চনাটক অন্তর্ভূক্ত হবে।

 

৩. কোন সিডি বা ডিভিডিতে ধারণকৃত শব্দ, ছবি ও ছবির মুভমেন্ট থাকলে তা কপিরাইট আইনের ২(১৪) ধারা অনুযায়ী  চলচ্চিত্র কর্মের অন্তর্ভূক্ত হবে।

 

৩. যে কোন ধারাবহিক নাটক, কার্টুন, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি কর্ম যখন সৃজিত, সম্পাদিত, প্রচারিত বা প্রকাশিত হয় তখনই এর কপিরাইট সৃজিত হয়। বিধি অনুযায়ী এক একটি কর্ম একটি পৃথক কর্ম হিসেবে গন্য হয়। তবে কখনো কখনো কোন খন্ড নাটক বা কার্টুন একসঙ্গে সৃজিত বা সম্পাদিত হতে পারে। কপিরাইট আইনে কোন চলচ্চিত্র বা সংগীত রেজিস্ট্রেশনের জন্য চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, নাটক বা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য বা সময়ের ব্যাপ্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন মেয়াদ নেই। তবে আবেদনপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশনার সময়, বৎসর উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় একই বছরে সম্পাদিত/প্রকাশিত কোন কর্মকে একই আবেদনে  বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি কর্মের সর্বোচ্চ সময়ের সুনির্দিষ্ট কোন সীমারেখা নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে কোন একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মেয়াদকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সময়সীমা  সচারচর ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। একে দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরে নিয়ে টিভিতে প্রচারিত যে কোন খন্ড নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫০ মিনিট হিসেবে গন্য করা যুক্তিযুক্ত হবে।  

 

৪. লোগো বা লেবেলের ক্ষেত্রেঃ

একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন একজন মানুষের মেধার ফসল। এই ডিজাইন চূড়ান্ত করতে কয়েক মুহুর্ত থেকে বহুদিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। এতে করে বিভিন্ন রং, নকশা, আকৃতি, পরিমাপ, কৌণিক দূরুত্ব, জ্যামিতিক দৃষ্টিকোণ ইত্যাদি বিষয়াবলী বিবেচনা ও নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি সাধন করে একটি পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। এতে যে সময়, শ্রম ও মেধা জড়িত থাকে, এর স্বীকৃতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোন ভবিষ্যৎ পণ্যের লেবেল বা লোগো-এর নান্দনিক বৈশিষ্ট্যে এবং নব উদ্ভাবিত সৃজনশীল অবদানকে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের স্বীকৃতি প্রদান করা যৌক্তিক ও আইনসম্মত। তদুপরি ভারত, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বহু দেশে পণ্যের লেভেল ও লোগোকে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়ে থাকে।


Share with :

Facebook Facebook